চোখের সামনে ধ*র্ষ*ণ করা হচ্ছে এক নিরীহ মেয়েকে



আমার বাসা সিলেট এর কোনো এক জায়গায়।স্থায়ি নয়।আমি সিলেট পলিটেকনিক এ লেখাপড়া করি।তাই লেখাপড়ার খাতিরে অখানেই থাকি।
কলেজ থেকে ১০ মিনিটের রাস্তা আমার বাসার। বাসায় আমি ছাড়াও আমার বন্ধু পাবেল থাকে।পাবেল কিছুদিনের জন্য বাসায় গেসে।কাজেই এখানে আমি একা।
৪ তলা বাসা রাত ৯ টার দিকে ছাদে গেসিলাম সিগারেট খেতে।কিন্তু সিগারেট জালিয়ে বাগানের দিকে তাকিয়ে দেখি একটা মেয়েকে কয়েকজন ছেকে মিলে রেপ করছে।১ম বার দেখে আমার চোখ কপালে উঠে গেল।সিউর হবার জন্য আবার বাগানের দিকে তাকালাম।আরে হ্যা একটা মেয়ে অনেক জোড়ে চিৎকার করছে বাচাও বাচাও বলে কিন্তু কয়েকটা ছেলে মেয়েটাকে ছিড়ে খাচ্ছে।আমি দুড়ি দিয়ে দৌড়ে নিচে নামলাম।বাগান যেহেতু বাসার পেছনের অংশে তাই পেছনে গেলাম। কিন্তু সেখানে গিয়ে তেমন কিছুই পেলাম না।সব পরিষ্কার। এনার্জি বাল্বলেন আলোতে সব দেখা যাচ্ছে সত্যি তো কিছু নাই।
ফিরে আসলাম,দারোয়ানকে বললাম বাগানে কেউ গেসিল।সে বলল,না।আমি তো শুধু আপনাকেই ভেতর থেকে আসতে গেলাম।আর কেউ ত আসে নি।
ঃঅহ আচ্ছা।
আমি আর কিছু না বলে ফিরে এলাম।রুমে গিয়ে দেখি ফোনে ৪৫ টা মিসডকল।আম্মা,পাবেল সহ অনেকেই কল দিসে।।
ফোন হাতে থাকা অবস্থায় পাবেল আবার ফোন দেয়।রিসিভ করে বললাম কবে আসবি,বলল কিছু দিনের মাঝেই আসবে।
তারপর একে একে সবার সাথেই কথা বললাম।কিন্তু আমি যে একটা মেয়েকে ধর্ষণ হতে দেখলাম।সেটা কি ভুল।
দারোয়ান কি তাহলে এটার সাথে জড়িত,তা না হলে তো মিথ্যা বলবে না।কিন্তু আমি কি ঠিক দেখলাম।
কি জানি ভুল ছিল হয়তো।
বেপার টা মাথা থেকে বের করার চেষ্টা করছি কিন্তু পারছি না।ঘুমাতে ঘুমাতে রাত ১ টার দিকে চোখ ২টা জোড়া লাগল।
আসলে কি বলব ফ্রি ফায়ার আপডেট দিয়ে অনেক্ষণ খেলার পর ঘুমাইলাম তাই দেরি।আর কলেজ আমার বিকেলের শিফট তাই ঘুমাতে পারি অনেক্ষণ।
চোখের পাতা সারাদিন পর এক হলো কিন্তু একটু কাল ঘুমে যাবার পর একটা অস্বাভাবিক চিৎকার।একলাফে উঠে পড়লাম ভাবলাম নিছক স্বপ্ন ছিল হয়তো। একটু পানি খেয়ে শুতে যাব কিন্তু আবার সেই ভয়ানক চিৎকার।এমন চিৎকার মানুষ তখনই দেয় যখন তারা জিবনের শেষ রাস্তায় থাকি হয়তো কারো খুব সাহায্য দরকার।
তারপর শব্দটা আরো ২ বার শুনলাম। পাশের রুমের ছেলেদের কোনো আওয়াজ পেলাম না ওরা কি শব্দ শুনে নাই।আমি বেলকুনিতে গিয়ে দাড়ালাম।শব্দটা আবিষ্কার করার জন্য।আমার বেলকুনি বাগানের ঠিক উপরে আর আমার বাসাটা ২ তলায়।বাড়িয়ালার বাসার সামনেই আমার বাসা তাই ভয় পেলেও চিল্লাইতে পারি না।বেলকুনিতে যাওয়ার পর আবার চিৎকার শুনতে পেলাম।
শব্দটা আমার মনে হয় নিচ থেকে এল।আমি নিচের দিকে তাকিয়ে অসম্ভব ভয় পেয়ে যাই।আরে এখানে তো একটা মেয়েকে কয়েকজন মিলে ধর্ষণ করছে।আর এই মেয়েটা তো সেই মেয়ে যাকে উপর থেকে দেখলাম।আমি নিচে যারা মেয়েটাকে ধর্ষণ। করছে তাদের উদ্দেশ্যে ধমক দিলাম।কিন্তু কারো কোনো খবর নাই।
তাই রুম থেকে বেরিয়ে নিচে গেলাম দারোয়ান আমাকে দেখে বলল,এত রাতে কই যান?
আমি দারোয়ানের কলার ধরে বাগানের পেছনে নিয়ে বললাম, এখ শালা।
দারোয়ানকে অনেক ধমক দিতে লাগলাম।কিন্তু দারোয়ান আমাকে থামিয়ে দিয়ে বলল,গাজা খাইছেন নাকি দেখেন কেউ নাই।শুধু শুধু পাগলামি কেন করেন।আমি দারোয়ানকে বললাম আমি কি দেখেছি।কিন্তু সে হেসে আমাকে বলল,যান ঘুমান আর মোবাইলে ওইসব দেইখেন না।কয়দিন পর তাইলে দিনের বেলায় ই দেখবেন।
চুপ করে এসে পড়লাম। শালার দারোয়ান এত বড় কথা বলল।চুপ করে রুমে আসলাম।কিন্তু মন সায় দিচ্ছে না।মনে হচ্ছে আর একবার তাকাই।
তাই মনের কথাশুনে আবার বেলিকুনিতে গিয়ে তাকালাম।এবার ও সেই এক দৃশ্য।কিন্তু এবার মেয়েটা কাদছে না আর সেখানে কেবল একটক ছেলে কিন্তু বাকিরা কই।আশেপাশে তাকিয়ে দেখি বাকিগুলা অন্য জায়গায় দাঁড়িয়ে।
আমি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছি না।তাই চোখে একটা ডলা দিয়ে আবার চোখ খুললাম।চোখ খুলার সাতগে সাথে নিচের মেয়েটা পরিষ্কার দেখতে পেলাম।আরে এটা তো নিলা।এটা সেই মেয়ে।
অলৌকিক ভাবে মেয়ে সহ ছেলেগুলা উধাও হয়ে গেল।আমি প্রায় ৫ মিনিট ওখাবে দাঁড়ায় ছিলাম কিন্তু নাহ আর দেখছি না। রুমে ঢোকার জন্য পেছন ফিরলাম কিন্তু পেছন ফিরে দেখলাম একটা কিছুর ছায়া আমার সামনে দাঁড়িয়ে। আমি বললাম কে?
উত্তর আসল না।বেলকুনিতে দাড়িয়েই আবার বললাম কে,কিন্তু এবার ছায়াটা চোখের পলকে আমার সামনে চলে আসল আর ছায়ার ভেতর থেকে কেউ হয়ত কোনো মেয়ে পৈশাচিক রূপে হু করে চিল্লায় উঠল।কতটা বাজে তার চেহারা বলে বোঝানো যাবে না।মেয়েটার মুখে গালে সেলাই করা ছিল,চোখ ছিল কিন্তু মণি ছিল না।
মেয়েটার হুট করে হু করে চিল্লায় উঠায় আমি এতটাই ভয় পেয়ে গেছি যে বেলকুনিতেই অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম সারা রাত।
কিন্তু কে এই মেয়ে। সত্যিই কি নিলা! কিন্তু ভৌতিক রূপে কেন?